Home জাতীয় কম্বোডিয়ার রাজধানীর প্রধান সড়ক হচ্ছে বঙ্গবন্ধুর নামে

কম্বোডিয়ার রাজধানীর প্রধান সড়ক হচ্ছে বঙ্গবন্ধুর নামে

SHARE

ডিসেম্বরের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কম্বোডিয়া সফরে দেশটির রাজধানী নমপেনের প্রধান সড়কের নাম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে নামকরণ করা হবে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। তিনি জানান, বাংলাদেশের বারিধারার কূটনৈতিক এলাকার ‘পার্ক রোড’টির নামও কম্বোডিয়ার প্রয়াত রাজা নরোদম সিহানুকের নামে করা হবে।

প্রধানমন্ত্রীর কম্বোডিয়ার সফর নিয়ে বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে আগামী ৩ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী এই দেশটি সফরে যাচ্ছেন।

২০১৪ সালের ১৬ থেকে ১৮ জুন কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে সফর করেন। তার ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর এ সফর।

সফরে দুই দেশের মধ্যে ১১টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হবে বলে জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে। এসব চুক্তির ফলে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সহযোগিতা আরও বাড়ার পাশাপাশি আর্থিকভাবে লাভবান হবে দুই দেশই।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, যেসব বিষয়ে চুক্তি ও সহযোগিতা হবে তার মধ্যে আছে যৌথ বাণিজ্যিক কাউন্সিল গঠন, ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য বাস্তবায়ন সহযোগিতা, শ্রম ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ খাত, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ক্ষেত্রে সহযোগিতা, পর্যটন ক্ষেত্রে সহযোগিতা, যুদ্ধের ইতিহাস, স্মৃতিস্তম্ভ এবং স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণে সহযোগিতা বিষয়ক, মৎস্য ও অ্যাকুয়াকালচার বিষয়ক এবং বিনিয়োগ প্রসার।

এছাড়া দুই দেশের শীর্ষ বাণিজ্যিক সংগঠনের মধ্যে সহযোগিতা সংক্রান্ত চুক্তি এবং বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্রাটেজিক স্টাডিজ এবং রয়্যাল একাডেমি অব কম্বোডিয়ার মধ্যে একাডেমিক পর্যায়ে সহযোগিতা সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক হওয়ার সম্ভাবনার কথা জানান মাহমুদ আলী।

মন্ত্রী জানান, সফরে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক ছাড়াও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী কম্বোডিয়ার রাজার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।

এই সফরে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের বিষয়েও অগ্রগতির আশা করছে বাংলাদেশ। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এবার বৌদ্ধপ্রধান দেশে যাচ্ছি। রোহিঙ্গা ফেরাতে এ সফর একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। যেহেতু মিয়ানমারের প্রতিবেশী দেশ কম্বোডিয়া সেহেতু রোহিঙ্গা ফিরিয়ে নিতে তারাও কার্যকরি ভূমিকা রাখতে পারে।’

সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রতিনিধি দলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী, বেসরকারি বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী, এসডিজির মুখ্য সমম্বয়ক, বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান ছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সদস্য এবং পররাষ্ট্র, বাণিজ্য, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান, মৎস ও পশু সম্পদ, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা থাকবেন।

সংবাদ সম্মেলনে পোপ ফ্রান্সিসের ঢাকা সফর সম্পর্কেও প্রশ্ন রাখা হয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে। তিনি বলেন, ‘পোপের এ সফর আমাদের জন্য গৌরব ও গর্বের। আমরা রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে বিপদে আছি। পোপের এ সফর রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে আলাদা গুরুত্ব বহন করে। রোহিঙ্গা সংকটে পোপ আমাদের পাশে আছেন বলে আগেই জানিয়েছেন।’- ঢাকাটাইমস