Home আন্তর্জাতিক ‘বিশ্ববাংলা’ বিপদ বাড়ালেন মমতা, ৫ বোমা মুকুলের হাতে। কতটা চিন্তা বাড়ল তৃণমূলের

‘বিশ্ববাংলা’ বিপদ বাড়ালেন মমতা, ৫ বোমা মুকুলের হাতে। কতটা চিন্তা বাড়ল তৃণমূলের

SHARE

বঙ্গ রাজনীতির নয়া অঙ্গ ‘বিশ্ববাংলা’। না আর রঙ্গ নেই এবার বিরোধী ও শাসকের যুদ্ধে পরিণত হল। আর এই বিতর্কে প্রথমবার মুখ খুলে নতুন প্রশ্ন তুলে দিলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

এবার কি মুকুল বনাম মমতা লড়াই। যুব তৃণমূল সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলার পরে মুখ্যমন্ত্রীকে জড়ালেও সরাসরি মমতা বন্দ্যাপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কোনও আক্রমণ শানাননি মুকুল। এবার সেটাই করতে চলেছেন বলে বিজেপি সূত্রে খবর।

এদিন বিধানসভায় মুকুল রায়ের নাম না করে এই বিষয়ে মুখ খুলেছেন মমতা। আর তার পরেই মুকুল জানিয়েছেন, এখনই নয় ২৪ ঘণ্টা পরে জবাব দেবেন তিনি। নব্য বিজেপি নেতার সাংবাদিক সম্মেলন বৃহস্পতিবার। তবে ইতিমধ্যেই মুকুলের আইনিজীবী যুক্তি সাজাতে শুরু করেছেন।

বুধবার ‘বিশ্ববাংলা’ বিতর্কে প্রথমবার মুখ খুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেটাও আবার রাজ্য বিধানসভায়। তিনি বলেছেন, ‘‘কেউ কেউ এই নিয়ে কুৎসা রটাচ্ছে। কিন্তু, বিশ্ব বাংলা লোগো, নাম আমার তৈরি। ২০১৩ সালে এই লোগো তৈরি করি। রাজ্য সরকারকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে তা ব্যবহার করতে দেওয়া হয়েছে। রাজ্য সরকার যতদিন ইচ্ছা তা ব্যবহার করবে। রাজ্য সরকার কোনওদিন ছেড়ে দিলে, তা আমার কাছে ফিরে আসবে।’’

গত ১০ নভেম্বর ধর্মতলায় বিজেপির সভা থেকে মুকুল রায় দাবি করেন, বিশ্ব বাংলা লোগো সরকারি নয়। বিশ্ববাংলা কোম্পানির মালিক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ঠিকানা ৩০বি, হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিট। যেটা আবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরই বাড়ির ঠিকানা।

এর পরে নবান্নে সাংবাদিক সম্মেলন করে স্বরাষ্ট্রসচিব অত্রি ভট্টাচার্য এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প দফতরের সচিব রাজীব সিংহ দাবি করেন, মিথ্যা কথা বলছেন মুকুল রায়। ওই ব্র্যান্ড ও লোগো পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নামেই নথিভুক্ত রয়েছে। অন্য দিকে, মুকুল রায়ের বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযোগ করায় মানহানির মামলা করেছেন অভিষেক।

এদিন মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের পরে নতুন প্রশ্ন তুলে সরব বিজেপি। মুকুল রায় এদিন বলেন, ‘‘যা বলার আগামিকাল বলব।’’

তবে রাজ্য বিজেপির রাজ্য সম্পাদক সায়ন্তন বসুর দাবি, রাজ্য সরকারের সঙ্গে ওই লোগো নিয়ে যে চুক্তি হয়েছে এবার প্রকাশ্যে আনা হোক। তাঁর অভিযোগ, ‘‘আসলে বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবার ওই লোগোটা রাজ্য সরকারকে লিজ দিয়েছে। এখন জানা দরকার কত দিনের চুক্তি হয়েছে। বিনা পয়সায় লোগো দিলেও, ‘বিশ্ববাংলা’-র ব্র্যান্ড ভ্যালু বেড়ে যাওয়ার পরে সেটা পিসির হয়ে ভাইপো ফেরৎ চাইতেই পারেন। রাজ্যের স্বার্থে ওই চুক্তি সামনে আসুক।’’

অন্য দিকে, মুকুল রায়ের আইনজীবী সোম মণ্ডল এবেলা.ইন-কে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য সম্পর্কে বলেন, তাঁদের অভিযোগই প্রমাণিত হচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি পাঁচটি প্রশ্ন তুলেছেন—

১। সরকারের টাকায় ব্র্যান্ড তৈরি করে নিজেরা নিয়ে নেবে না তো?

২। সরকারকে মুখ্যমন্ত্রী লোগো দান করে থাকলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কেন ট্রেডমার্কের আবেদন করলেন?

৩। পশ্চিমবঙ্গ সরকার যখন ট্রেডমার্কের আবেদন করল তখন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে চুক্তির কথা বলল না কেন?

৪। অভিষেকের আবেদনের বিরোধিতা করার সময়ে রাজ্য সরকার কেন সেই দান বা চুক্তির কথা উল্লেখ করল না?

৫। রাজ্য সরকার আবেদনের সঙ্গে অভিষেকের বিরুদ্ধে খারাপ উদ্দেশ্য ও অবিশ্বাসের অভিযোগ তুলেছে। তখনও চুক্তির কথা কেন বলেনি?

এই পাঁচ প্রশ্ন তুলে মুকুল রায়ের আইনজীবী সোম মণ্ডলের দাবি, দোষ ঢাকতে এখন কুযুক্তি সাজাচ্ছে সরকার ও তৃণমূল কংগ্রেস। যা আরও বিপদ ডেকে আনবে।

সূত্রঃ এবেলা ডট ইন